আদালতে প্রবাসীর স্ত্রীকে অপহরণের মামলা, বাস্তবতায় ভিন্ন!

সংবাদদাতাঃ মনোহরগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগে শাহ জামাল নামে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ওই নারীর বাবা।
গত বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারী) ওই নারীর পিতা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদী হয়ে শাহ জামালের বিরুদ্ধে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।
মামলার সম্পর্কে অভিযুক্ত শাহ জামালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরূদ্ধে যে অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করা হয়েছে, তা সম্পন্ন মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
ওই ভদ্র নারীর সাথে আমার এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।
তাহার পিতা আমার ও পরিবারের মান-সন্মান নষ্ট করা জন্য নুরুজ্জামান আদালতে মামলা করেন। বিষয়টি এলাকার লোকজনের কাছ থেকে শুনলে আসল ঘটনার সত্যতা পাবেন।

মামলা এজাহারে জানা যায়, নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের কান্দি
গ্রামের মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মেয়ে নাছরিন আক্তার লুনার সঙ্গে পাশের বাড়ীর প্রবাসী কামালের সাথে ক’বছর পূর্বে বিবাহ হয়।
তাদের সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে। বর্তমানে ওই নারীর স্বামী প্রবাসে রয়েছেন। গত ক’দিন থেকে একই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মোঃ শাহ জামাল ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় উত্তক্ত করতেন।
বিষয়টি নিজ পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করায় ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ জামাল গত ৮ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাবার বাড়ী থেকে রুনাকে ডেকে নিয়ে গলায় ছুরি ধরে ও চোখ-মুখ বেঁধে সিএনজি যোগে নিয়ে যান শাহ জামাল ও তার সহযোগীরা।
বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী তাকে উদ্ধারের তৎপরতা চালান। অবস্থা বেগতিক দেখে ওই নারীকে পাশবর্তী নারারপাড়
গ্রামে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত শাহ জামাল। পরে সেখান থেকে গ্রামবাসী
তাকে উদ্ধার করেন। এদিকে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে গত
বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারীর পিতা বাদী হয়ে কুমিল্লার নারী ও
শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় যে-
এ বিষয়ে কান্দি গ্রামের রুহল আমিন,ইমান হোসন ও আব্দুর রব মাঝিসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, তুচ্ছ একটি ঘটনা শুনেছি তবে অপহরণ করে নিয়েছে এমন কোন ঘটনা ঘটেছে কি-না তা আমাদের জানা নেই।
সাবেক ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন বলেন, ‘সত্য-মিথ্যা যাই হোক, একটি
ঘটনাতো ঘটেছেই। বিষয় টি সমাধানের জন্য চেয়ারম্যান ক’জনকে দ্বায়িত্ব দেন। আমরা পরপর ক’বার যাওয়ার পরেও মেয়ের বাবা আমাদের সাথে কথা বলে নাই।
তারা আমাদের বয়কট করে আদালতে মামলা করে। আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব সরাসরি ভুক্তভোগী নারীর মুখ
থেকে ঘটনার বিবরণ শুনেছেন। এব্যাপারে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।
অভিযুক্ত শাহ জামালের সাথে ভুক্তভোগী নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিলো দাবি করে, নাথেরপেটুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার রুহুল আমিন বলেন, আমি ওই মেয়ের বক্তব্য আমি নিয়েছি, সামাজিক ভাবে মিমাংসা করার জন্য উভয়ের কাছে লোক পাঠাই। আদালতে মামলার বিষয়ে আমি কিনা জানি না।
গোপনে ধারণকৃত রুনার বক্তব্য ও মামলার এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগ গুলোর মধ্যে গরমিল বিদ্যমান।
অভিযোগে উল্লেখিত শাহ জামাল ও অজ্ঞাত ২/৩ আর রুনার বক্তব্যে শুধু শাহ জামাল।
তাছাড়া আরো অনেক তথ্যেই প্রমাণিত হয় বিষয় টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও মিথ্যে।
তাহলে- মেয়েটির বাবা অন্য কারো প্ররোচনায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের গল্পের মত মেতে উঠলেন না-তো?
প্রশ্ন টি রয়েই গেলো!

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

Check Also
Close
Back to top button
error: দয়া করে নিঊজ কপি করা থেকে বিরতো থাকুন